বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন

আমাদের সম্পর্কে

আমরা একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠন, যা দেশের প্রচলিত আইন মেনে মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনের প্রকৃতি ও আদর্শ

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমাদৃত মানবিক সংগঠন।

আমাদের মূল শক্তি ও চেতনা নিহিত রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্রের মাঝে।

এই সংগঠন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা মহলের ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে না। আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা এবং সততা বজায় রেখে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো—জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, মতাদর্শ, সামাজিক বা আর্থিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। সমাজে পিছিয়ে পড়া, অধিকারবঞ্চিত, নিগৃহীত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আইনি ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের জন্মগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাই আমাদের একমাত্র ব্রত।

67faf907 61c8 4a00 9ae7 eee0f27f3b7f

প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ

আমরা সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নির্যাতন, হয়রানি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনসম্মতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

— জনসচেতনতা ও সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি
(Raising Awareness & Social Awakening)

তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তাদের মৌলিক ও সাংবিধানিক মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা আমাদের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতনতাই অধিকার রক্ষার প্রথম ধাপ। এই লক্ষ্যে আমরা সর্বসাধারণের জন্য সহজ ভাষায় মানবাধিকারের আইনসমূহ প্রচার করি। নাগরিকরা যেন তাদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন, নিজেদের ওপর হওয়া বৈষম্য বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারেন এবং একই সাথে অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারেন—সেই উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী স্থায়ী সচেতনতামূলক সামাজিক জাগরণ সৃষ্টিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

— আইনি ও প্রাথমিক সহায়তা এবং রেফারাল কার্যক্রম
(Legal Aid & Referral System)

মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার, সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় এবং নিগৃহীত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল আইনি সেল কাজ করে। সমাজের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তা নথিভুক্ত করি। এরপর আমাদের দক্ষ প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণ যাচাই (Verification) করা হয়। অভিযোগের সত্যতা সাপেক্ষে ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক আইনি পরামর্শ দেওয়া হয় এবং চূড়ান্ত আইনি প্রতিকারের জন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, মানবাধিকার আইনজীবী অথবা নিবন্ধিত আইনি সহায়তা প্রদানকারী নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে রেফার (Refer) করা হয়।

03.

— তথ্য সংগ্রহ, নিবিড় গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মশালা (Research, Training & Workshops)

দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আমাদের সংগঠন নিয়মিত মাঠ পর্যায় থেকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এই সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা (Research) পরিচালনা করা হয়। এছাড়া মানবাধিকার কর্মীদের আইনি জ্ঞান বৃদ্ধি, তদন্তের সঠিক পদ্ধতি শিক্ষাদান এবং সাধারণ জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত সভা, জাতীয় ও আঞ্চলিক সেমিনার, সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্মশালার (Workshops) আয়োজন করি—যা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখছে।